Latest News
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ ।। ১৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Home / জাতীয় / ঝালকাঠিতে ঘুষ না দেওয়ায় প্রশিক্ষককে চাকরিচ্যুত করলেন টিটিসি অধ্যক্ষ

ঝালকাঠিতে ঘুষ না দেওয়ায় প্রশিক্ষককে চাকরিচ্যুত করলেন টিটিসি অধ্যক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার :
ঝালকাঠি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সাদেকা সুলতানার বিরুদ্ধে ড্রাইভিং প্রশিক্ষকের কাছে মাসিক বেতনের অর্ধেক ঘুষ দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ড্রাইভিং প্রশিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের মাসিক বেতন ২৬ হাজার ৪০০ টাকা। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ দায়েরে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করেন অধ্যক্ষ।
অভিযোগে জানা যায়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধিনস্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের দক্ষ ড্রাইভিং (এসইআইপি) প্রকল্পর আওতায় ঝালকাঠি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ড্রাইভিং প্রশিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি দেখে ওই পদে আবেদন করেন ঝালকাঠি শহরের টিঅ্যান্ডটি সড়কের মো. গিয়াস উদ্দিন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গিয়াস উদ্দিন ড্রাইভিং প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগের শর্তানুযায়ী প্রতিকর্ম দিবস ১২০০ টাকা হিসেবে মাসে ২২ কর্মদিবস ধরে বেতন নির্ধারণ করা হয় ২৬ হাজার ৪০০ টাকা। গিয়াস উদ্দিন গত ১ জানুয়ারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগদান করেন। গত ১৬ মার্চ গিয়াস উদ্দিনকে জানুয়ারি মাসের বেতনের চেক প্রদান করা হয়। চেক প্রদান করে অধ্যক্ষ সাদেকা সুলতানা গিয়াস উদ্দিনকে বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে আপনি ১২ হাজার টাকা নিবেন, বাকি টাকা আমাকে দিয়ে যাবেন। আমি যা বলি তা শুনতে হবে। আমার কথা শুনলে সারা জীবন চাকরি করতে পারবেন, আর না শুনলে আপনাকে অব্যহতি দিয়ে দেব। এ কথা শুনে গিয়াস উদ্দিন অধ্যক্ষ সাদেকা সুলতানাকে বলেন, নিয়োগের শর্তনুযায়ী আমাকে ২৬ হাজার ৪০০ টাকা বেতন দিতে হবে। গিয়াস উদ্দিন অধ্যক্ষ সাদেকা সুলতানার অবৈধ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ও ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের খবর শুনে ক্ষিপ্ত হন অধ্যক্ষ। তিনি গত ৩১ মার্চ গিয়াসকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেন।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি বৈধভাবে পরিশ্রম করে যে বেতন পাবো, তার অর্ধেক কেন ঘুষ চাইবেন অধ্যক্ষ। আমি ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আমাকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক বিচার দাবি করছি। আমি চাকরি ফিরে পেতে চাই।
এ ব্যাপারে সাদেকা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, গিয়াস উদ্দিনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কর্মে অদক্ষতা এবং প্রশিক্ষণকালে কেন্দ্রে ধূমপান করার কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।