Latest News
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ ।। ১৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Home / আইন-আদালত / ঝালকাঠির মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় বাদীর সহায়তাকারী আ.লীগ নেতা কারাগারে

ঝালকাঠির মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় বাদীর সহায়তাকারী আ.লীগ নেতা কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার :
ঝালকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন রানাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার পরামর্শদাতা শহরের চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদ রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার বিকালে ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২ এর বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসকেএম তোফায়েল হাসান তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি একই আদালত মিথ্যা মামলা করায় মামলার বাদী রেনু বেগম ও তাঁর পরামর্শদাতা আজাদ রহমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছিল। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায় প্রদানের সময় আদালতে রেনু বেগম উপস্থিত থাকলেও আজাদ রহমান পলাতক ছিল। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এম আলম খান কামাল এবং আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদ সিকদার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঝালকাঠি শহরের পালবাড়ি এলাকার মৃত আবুল কাশেম হাওলাদারের স্ত্রী রেনু বেগম একই এলাকার বাসিন্দা আজাদ রহমানের পরামর্শে ঝালকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন রানা ও লবন পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ এর বিচারক রেনু বেগমের মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল কর্তপক্ষকে এবং ঘটনার তদন্তের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। মেডিকেল রির্পোট ও তদন্তে ধর্ষণের ঘটনাটি মিথ্যা ও সাজানো বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্মৃতি রানি ঘারামী। ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট মামলায় অভিযুক্ত সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন এবং বাবুল হাওলাদারকে ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যহতি প্রদান করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় মামলার বাদী রেনু বেগম এবং মিথ্যা মামলা করার পরামর্শদাতা আজাদ রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের জন্য নারীও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ০২ পাঠানো হয়। আজাদ রহমান হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে চার্জ গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি দীর্ঘদিন হাইকোর্টে স্টে করে রাখেন।। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আদালত রেনু বেগম ও আজাদ রহমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। রেনু বেগম গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে জামিন লাভ করে। আজাদ রহমান সোমবার আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।