Latest News
শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪ ।। ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Home / জাতীয় / ঝালকাঠির রণমতি গ্রামে হচ্ছে আনোয়ার কুয়েত পার্ক

ঝালকাঠির রণমতি গ্রামে হচ্ছে আনোয়ার কুয়েত পার্ক

কে এম সবুজ :
ঝালকাঠি সদর উপজেলার কেওড়া ইউনিয়নের হৃদয় নগড়-রণমতি গ্রামে মনোরম পরিবেশে নির্মাণ করা হচ্ছে আনোয়ার কুয়েত পার্ক। কুয়েত প্রবাসী আনোয়ার হোসেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ পার্কটি নির্মাণ করছেন। ইতোমধ্যেই জমি কিনে কাজ শুরু করেছেন তিনি। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য চলছে নানা আয়োজন। নির্মাণাধীন পার্কেই ঘুরতে যাচ্ছেন বিনোদন প্রেমীরা। অনেকে সেখানে পিকনিকের আয়োজনও করছেন। নদী ও সড়ক পথ, দুই পথেই পার্কে যাওয়া সম্ভব। কীত্তিপাশা সেতু থেকে চার কিলোমিটার অথবা রণমতি গ্রামের মূল সড়কের পর দুই কিলোমিটার মাটির রাস্তা পিচঢালা হলে ভ্রমণকারীরা সহযোই কুয়েত পার্কে যেতে পারেন।
জানা যায়, ঝালকাঠি শহরের বাসন্ডা এলাকার আনোয়ার হোসেন জোমাদ্দার দীর্ঘ দিনধরে কুয়েত থাকেন। ভ্রমণপিপাষূ মানুষের জন্য তিনি একটি পার্ক করার চিন্তা করেন। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার হৃদয় নগড়-রণমতি গ্রামে শশীতের খালের পাশে মনোরম পরিবেশে ১৫ একর জমি কেনেন। প্রবাসে থেইে তিনি স্বজনদের দিয়ে ওই জমিতে আনোয়ার কুয়েত পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করেন। চারপাশে সীমানা দিয়ে পুরোদমে চলছে পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। লাগানো হয়েছে নানা প্রজাতির গাছ। ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছগুলোতে পাখি বসবাসেরও ব্যবস্থা করেছেন। গাছে গাছে লাগানো হয়েছে মাটির তৈরি হাড়ি। এসব হাড়িতেই বাসা বাধছেন বিভিন্ন ধরণের পাখি। পাখির কিচিমমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কুয়েত পার্ক। পার্কের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে পিকনিক স্পট। শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলনা নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে বলে পার্ক নির্মাণকারীরা জানিয়েছেন।
ঝালকাঠি শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার যেকোন গাড়িতে কীর্ত্তিপাশা বাজারে গিয়ে চার কিলোমিটার মাটির রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় এই পার্কে। অথবা কেওড়া ইউনিয়নের রণমতি গ্রামের মূল সড়ক থেকে দুই কিলোমিটার মাটির রাস্তা দিয়েও কুয়েত পার্বে প্রবেশ করা যায়। এছাড়াও ভ্রমণপিপাষুরা শহর থেকে নৌ পথেও যেতে পারেন পার্কে। শহরের বাসন্ডা নদী হয়ে কীর্ত্তিপাশা হয়ে শশীতের খালের মধ্য দিয়েও এই পার্কে যাওয়া যাবে। নদী পথে ছোট লঞ্চ অথবা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে নদী ও খালের দুই তীরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে একঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যাবে পার্কে। সড়ক পথে পার্কে যেতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট।
আনোয়ার কুয়েত পার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা আনোয়ার হোসেন জোমাদ্দার মুঠোফেনে বলেন, পার্কটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ চলছে। আমরা শিশুদের নানা ধরণের খেলনা নির্মাণ করবো। একটি লেক খননের কাজ চলছে। সেখানে থাকবে কয়েকটি সাম্পান (নৌকা)। ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের বাগান থাকবে। পিকনিকের সব আয়োজন থাকবে পার্কে। ঘুরতে এসে কেউ যেন হতাশ হয়ে না যায়, সে ব্যবস্থা করছি আমরা। সড়ক পথটি মাটির রাস্তা হওয়ায় এখানে পর্যটক কিংবা ভ্রমণপিপাষুদের আসতে একটু কষ্ট হচ্ছে। এটা যদি সরকার পিচঢালা পথ করে দিতেন, তাহলে পার্কে যেতে সময় কম লাগতো।
আনোয়ার কুয়েত পার্কে এক দিন :
তখন সকাল ১০টা। চারটি মোটরসাইকেলে করে আমরা ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে ছুঁটে চললাম আনোয়ার কুয়েত পার্কের দিকে। কীর্ত্তিপাশা সেতুর কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। কীর্ত্তিপাশা খাল থেকে ট্রলার চালু করলেন চালক। নৌপথে ট্রলারের ঝিমধরা শব্দে ঘুম আসছিল। সহকর্মীদের মনের আনন্দ দেখে প্রকৃতিও শীতল হতে শুরু করলো। ট্রলারের ওপরের টাঙানো কাপড় ভেদ করে রোদ এসে সরাসরি গায়ে লাগছে। খালের প্রথম বাকঘুতেই দুপাশে ফলদও বজন গাছের ছায়ায় সস্তি ফিরে আসে প্রাণে। আকাশজুড়ে তাপদাহ, আর একাধারে বইছে শীতল বাতাস। চারদিকে শুধু বনায়ন, তার বুকচিরে ট্রলার চালকসহ আমরা দশজন যাচ্ছি আনোয়ার কুয়েত পার্কে। গ্রামের মানুষগুলো বেশিরভাগই কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। খালের পাশেই ফসলের মাঠ। রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ। গাছের ওপর বসছে হরেক রকমের পাখি। চারদিকে পাখির কিচিরমিচির শব্দ। শব্ধগুলো যখন কান ছুয়ে মনে লাগে, তখন ভ্রমনকারীদের বাড়তি আনন্দের যোগান দেয়। একঘন্টা পর পৌঁছলাম পার্কে। পার্কের প্রবেশদ্বারেই ঝুলানো রয়েছে একটি সাইনবোর্ড। সেখানে লেখা আছে আনোয়ার কুয়েত পার্ক। আনোয়ার ভাইয়ের ছবি দেখে নিচে ফেললাম। ভেতরে প্রবেশ করতেই বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। চলছে পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। শ্রমিক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এখন চলছে লেক নির্মাণের কাজ। এরপরই কাজ শুরু হবে শিশুদের খেলা নির্মানের। পার্কের ডান পাশ দিয়ে কিছুদূর হেঁটে গিয়ে ছোট একটি ঘর। সেখানে চলছে রান্নার কাজ। আশেপাশের গাছে বসা পাখির কলোরব। গাছে বাধানো আছে পাখি থাকার জন্য মাটির হাড়ি।
পার্কের দায়িত্বে থাকা আজিজুল হক মহসিন ব্যস্ত অতিথি আপ্যায়নে। বাগানের মধ্যেই চেয়ার টেবিল রাখা আছে। সবাই বসে পড়লাম। শুরুতেই আপ্যায়ন করা হলো ডাবের পানি দিয়ে। পরে গাছ থেকে পেড়ে খাওয়া হলো কলা। মোটা ধানের মুড়ির সঙ্গে জিলাপির সাধই আলাদা। পার্কের পাশেই রয়েছে শশীতের খাল। খালে কেউ জাল ফেলে মাছ ধরছেন, কেউ আবার ট্রলার নিয়ে যাতায়াত করছেন। খালের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলায় ব্যস্ত ভ্রমণকারীরা। দুপুর হয়ে গেলো। মজাদার সব আয়োজন ছিল পার্ক কর্তৃপক্ষের। বিকেলে প্রাণের শহর ঝালকাঠিতে ফিরে আসা।