Latest News
শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪ ।। ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Home / আন্তর্জাতিক / চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকি

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকি

ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাগরের কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জে চীন ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়েছে—এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন বলেছে, এর পরিণতি ভালো হবে না। জবাবে পেইচিং বলেছে, আত্মরক্ষার স্বার্থে দ্বীপে সামরিক স্থাপনা বসানো তাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। আর এটা অন্যায় হলে একই অন্যায় যুক্তরাষ্ট্রও করছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত কিছু এলাকার পুরোটাই নিজেদের দাবি করে পেইচিং। কিন্তু ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও তাইওয়ানও কিছু এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এসব দেশের পক্ষে। বিরোধপূর্ণ এসব এলাকা হলো স্পার্টলি, প্যারাসেল ও স্কেয়ারবোরো দ্বীপপুঞ্জ। এর মধ্যে স্পার্টলিতে বেশ কয়েকটি কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়েছে চীন। এ ছাড়া দখলকৃত দ্বীপে তারা সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করেছে বলেও অভিযোগ আছে। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জের তিনটি শৈলশ্রেণিতে (রিফ) ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়েছে। এগুলো হলো সুবি, ফিয়েরি ক্রস ও মিশেফ শৈলশ্রেণি। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিএনবিসি আরো জানায়, এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান বিধ্বংসী। এর মধ্যে ‘ওয়াইজে-১২বি’ নামের যে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বসানো হয়েছে, সেটি ২৯৫ নটিক্যাল মাইল দূরের কোনো লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সম্ভব। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য মতে, গত মাসে সামরিক মহড়ার সময় চীন এসব ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়েছে।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সামরিক মহড়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো শৈলশ্রেণিগুলোতে বসানো আছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ’

তবে সিএনবিসির প্রতিবেদনকে সত্য ধরে নিয়ে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স বলেছেন, ‘দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলে পেইচিং যেসব সামরিক স্থাপনা বসিয়েছে, তার সব কিছুই আমরা জানি। এ জন্য চীনকে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে পরিণাম ভোগ করতে হবে। ’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রতিক্রিয়ার জবাবে গতকাল শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, ‘কৃত্রিম দ্বীপাঞ্চলে প্রতিরক্ষার স্বার্থে সামরিক স্থাপনা বসানোর অধিকার চীনের আছে। এতে অন্যায়ের কিছু নেই। দক্ষিণ চীন সাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিনিয়ত সামরিক স্থাপনা বসাচ্ছে। এর পরিণাম কী হতে পারে, সেটাও তাদের ভাবা উচিত। ’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিকায়ন যে পর্যায়ে চলে গেছে, সেখান থেকে ফেরত আসা প্রায় অসম্ভব। সিঙ্গাপুরের ‘এস রাজরত্মম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর গবেষক কোলিন কোহ বলেন, ‘দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যু যে পর্যায়ে চলে গেছে, আমরা চাইলেই তা বদলাতে পারব না। এটা এখন পুরোপুরি চীনের ওপর নির্ভর করছে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে যে বিতর্কিত অঞ্চলগুলোতে সামরিকায়ন চলবে, নাকি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অন্যরা সর্বোচ্চ চীনকে বোঝাতে পারে। ’

লেজার হামলার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ করেছে, পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে মার্কিন পাইলটদের লক্ষ্য করে চীনের সামরিক ঘাঁটি থেকে ‘লেজার’ (তীব্র আলোকরশ্মি) নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ‘গুরুতর’ উল্লেখ করে এরই মধ্যে চীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভাষ্য, জিবুতিতে বিমান নিয়ে অবতরণের সময় একাধিকবার চীনের সামরিক ঘাঁটি থেকে লেজার নিক্ষেপ করা হয়। একটি ঘটনায় কার্গো বিমানের দুই পাইলট চোখে আঘাত পেয়েছে বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ব্যাপারে চীনের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, জিবুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনেরও সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। আর দুই ঘাঁটির দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি।