Latest News
বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪ ।। ১২ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Home / জাতীয় / ঠিকানা খুঁজে পেলেন বৃদ্ধ মনোয়ারা বেগম

ঠিকানা খুঁজে পেলেন বৃদ্ধ মনোয়ারা বেগম

 

 

 

 

কে এম সবুজ :
স্বামী মারা যাওয়ার পরে সঙ্গীহীন হয়ে পড়েন মনোয়ারা বেগম (৬৫)। আশ্রয় নেন ছেলের ভাড়া করা বাসায়। রিকশা চালক ছেলের রোজগারে সংসার চলছিল না। বাধ্য হয়ে বৃদ্ধ বয়সে অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। কাজ করতে করতে তাঁর দুচোখ আপছা হয়ে আসে। চোখে একটু কম দেখতে শুরু করেন। শরীরে বাসা বাধে নানা রোগ। ছেলের সংসারেও বোঝা হয়ে পড়েন তিনি। এ অবস্থায় মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা শুরু করেন। বিষয়টি ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে মনোয়ারা বেগমকে সরকারি শিশু পরিবারের একটি কক্ষে আজীবন থাকা, ওষুধ ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ওই কক্ষে নিয়ে যান জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। নিজের একটি ঠিকানা খুঁজে পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন মনোয়ারা বেগম। দোয়া করেন জেলা প্রশাসকের জন্য। তবে বৃদ্ধ মনোয়ারার শর্ত একটাই, মাঝে মধ্যে যেন তাঁর একমাত্র ছেলে সজিবকে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। সব শর্ত মেনেই জেলা প্রশাসন তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন।
জানা যায়, শহরের সিটি ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ছেলের সঙ্গে থাকতেন মনোয়ারা বেগম। সেখানে থেকে প্রথমে অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। চোখে ঠিকমতো দেখতে পান না বলে অন্যের বাড়ির কাজেও রাখা হচ্ছিল না তাকে। বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা শুরু করেন তিনি। সম্প্রতি কালেক্টরেট মসজিদে নামাজ শেষে বের হওয়া মুসল্লিদের কাছে ভিক্ষা চান মনোয়ারা বেগম। এ সময় মসজিদে নামাজ শেষে করে বের হন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। জেলা প্রশাসক ভিক্ষুক মনোয়ারা বেগমকে দেখে খোঁজখবর নেন তাঁর। ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য তিনি ইতোমধ্যেই জেলার চারটি উপজেলায় কাজ শুরু করেছেন। তাই মনোয়ারা বেগমকেও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক। বৃহস্পতিবার মনোয়ারা বেগমকে সরকারি শিশু পরিবারের একটি কক্ষে আজীবন বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন জেলা প্রশাসক। এমনকি তাঁর ওষুধ ও তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আখতারুজ্জামান মামুন ও সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত¡াবধায়ক নাহিদা জাহান তুফা।
মনোয়ারা বেগম বলেন, আমি মৃত্যুর পথযাত্রী। মানুষের কাছে হাতপেতে যা পেতাম, তাই দিয়েই খাবার জুটতো। ডিসি স্যার আমার দায়িত্ব নিয়ে আমাকে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। খাবারও দেবেন। আমি আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখছি। ডিসি স্যারের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।
জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, আমরা ভিক্ষুক পুনর্বাসনের কাজ শুরু করেছি। ঝালকাঠি জেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে তালিকা করে পুনর্বাসনের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তারপরেও যদি মনোয়ারার মতো কেউ থেকে থাকেন, তাদের থাকা খাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি শিশু পরিবারে কয়েকটি কক্ষ এসব ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ রাখা আছে। মনোয়ারা বেগমের মুখে হাসি দেখে আমাদের সবারই ভাল লেগেছে। তিনি যেন খেয়েদেয়ে সুস্থ্য থাকতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।